কাওছার হোসেন, দৈনিক জনশ্রুতিঃ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা ‘সমাধান’।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন সম্প্রসারণে সংস্থাটির পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য আম, কাঁঠাল, আমলকি, অর্জুন, কাঠবাদাম, দেবদারু, জলপাই ও জামরুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় সবুজের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে উৎসাহিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কারণ, পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; গাছ লাগানো, তার যত্ন নেওয়া এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার অভ্যাসের মধ্য দিয়েও এই শিক্ষা বাস্তব রূপ পায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাধান, কেশবপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. মিজানুর রহমান। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার সংস্কৃতি গড়ে তোলা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে পারে।
এ সময় চুকনগর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান এবং বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ, সংরক্ষণ ও পরিচর্যার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তবে বৃক্ষরোপণের সাফল্য শুধু কতটি চারা বিতরণ করা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না; চারাগুলো কতটা বেড়ে উঠল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে আজকের চারাগুলোই একদিন কলেজ প্রাঙ্গণে ছায়া দেবে, পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়াবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজের উত্তরাধিকার তৈরি করবে।
সমাধানের এ উদ্যোগ তাই শুধু চারা বিতরণের কর্মসূচি নয়, শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশবান্ধব চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি প্রয়াস। প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই হতে পারে এমন উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।