কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কলেজ পাড়ার বাসিন্দা সাবেক কোরিয়া প্রবাসী ৩৯ বছর বয়সী এক তরুণ যুবকের পরিচালনায় কেশবপুর কোরিয়ান ভাষা কোচিং সেন্টার ১৫ বছরে পদার্পণ করেছে ।
কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবুল হোসাইনের ছেলে মোঃ মাহবুবুল্লাহ সুনামের সহিত কেশবপুরে কোরিয়ান ভাষা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন ।
কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাহবুবুল্লাহ দৈনিক জনশ্রুতি নিউজকে জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর (২০১০ থেকে ২০১৫) সাল পর্যন্ত কোরিয়ায় ওয়ার্কিং ভিসায় অবস্থানরত ছিলেন তিনি । বর্তমানে ব্যবসায়ের পাশাপাশি কেশবপুর কোরিয়ান ভাষা কোচিং সেন্টার নামে একটি কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন । দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন যেন সঠিক ও বৈধ উপায়ে কোরিয়ায় গিয়ে তার ছাত্ররা দেশের জন্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন ।
কেশবপুর কোরিয়ান ভাষা কোচিং সেন্টারের পথচলা যদিও ২০০৮ সাল থেকে তবে কেশবপুরের মানুষ কোরিয়া সম্পর্কে ভালো না জানার কারণে তখন ছাত্র সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য । তাছাড়া আগে পরীক্ষার জন্য লটারি পদ্ধতি ছিলো । সেই লটারি না পাওয়ায় ছাত্ররা কোরিয়ান ভাষা জানলেও পরীক্ষা দিতে পারত না ।
তিনি আরো বলেন, গত ২০২২ সাল থেকে ভাষা পারদর্শী পরীক্ষা শুরু হয়েছে । তাই এখন যে কেউ ভাষা জানলেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে । সেই সংবাদের পর ২০২২ সালের শেষে একটি ভাষা পারদর্শী পরীক্ষায় ৮ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করেন এবং ৮ জন পরীক্ষার্থীর ভিতরে ৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২৩ সালে মোট ৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন । যদিও ছাত্র সংখ্যা ২০০ জনের কাছাকাছি ছিলো । তবে অনেকেই এসএসসি পাস না হওয়ায় এবং পাসপোর্ট না থাকায় আবেদন করতে পারেনি । তবে ঐ ৭২জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন । বর্তমানে আমার ৬ জন ছাত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন ।
সর্ব প্রথম যিনি গিয়েছেন মোঃ খাইরুল ইসলাম (কলেজ পাড়া, কেশবপুর), এরপর ধারাবাহিকভাবে মোঃ জিয়াউর রহমান, (রতনদিয়া, মনিরামপুর), মোঃ আজহারুল ইসলাম (বিশ্বাসপাড়া, আলতাপোল, কেশবপুর), মোঃ মাসুদুর রহমান (কুষ্টিয়া), মোঃ শোয়াইব হোসেন (তালা, সাতক্ষীরা), মোঃ রাশেদুল ইসলাম (রতন দিয়া, মনিরামপুর)।
এছাড়া বাকি সবাই কোরিয়ায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। বর্তমান আমার ছাত্রসংখ্যা আলহামদুলিল্লাহ প্রায় ২৫০ জন।

উল্লেখ্য, কেশবপুর কোরিয়ান ভাষা কোচিং সেন্টারের ছাত্রদের ভাষা শিক্ষার সুবিধার্থে কোরিয়ান ভাষার সকল প্রকার স্কিল টেস্টের সরঞ্জাম পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়ের ব্যবস্থাসহ স্বল্প খরচে আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোঃ মাহবুবুল্লাহ ।