শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর প্রেসক্লাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন সদস্য হলেন ৩৭ জন এক হাতেই জীবনজয়ের লড়াই, স্নাতকোত্তর কল্লোলের জীবিকা এখন পথে পথে বেকারির পণ্য বিক্রি খুলনার রূপসায় ফখরুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার শ্রেণিকক্ষের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির পাঠ, চুকনগর কলেজে সমাধানের বৃক্ষ বিতরণ সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে নূরানিয়া মাদরাসায় ‘সমাধান’-এর বৃক্ষ বিতরণ মোংলায় ৭৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সহযোগী রঞ্জন মন্ডল গ্রেফতার ত্রাণ নয়, মর্যাদার সঙ্গে সহায়তা: দৌলতপুরে ভিবিডির ‘১ টাকার বাজার’ কেশবপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাধানের ১৪৫টি গাছের চারা বিতরণ যশোরে MRA চাকরি মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

কেশবপুরে মেইনরোডে ঝুপড়ি ঘরে ঠাঁই হলো বন্যাকবলিত প্রায় শতাধিক পরিবারের

বিল্লাল হোসেন (কেশবপুর) যশোর / ২০৪ বার পঠিত
প্রকাশিত : বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

বিল্লাল হোসেন (কেশবপুর) যশোর: যশোরের কেশবপুর উপজেলার যশোর-সাতক্ষীরার ব্যাস্ততম সড়কের মধ্যকুল আমতলা, গুটলেতলা নামক স্হানে প্রায় শতাধিক পরিবার ঝুপড়ি ঘর বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

কেশবপুর উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যকুল হাবাসপোলের অধিকাংশ বাড়িতে পানি উঠে ও ঘরে ঢুকতে শুরু করে, তখন মেইন রোডের দুই পাশের বাসিন্দারা নিজেদের এবং গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখা শুরু করেন। তখনই তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঠে পড়েন পাশের মেইন রোডের ওপর। ওই রোডের দুই পাশে অস্থায়ী ছাউনি বা ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে প্রায় শতাধিক পরিবার এখনো বসবাস করছে। কোনো কোনো পরিবার দুই সপ্তাহ কিংবা তারও বেশিদিন ধরে অবস্থান নিয়েছে মেইন রোডের পাশে। তারা এখন প্রহর গুনছে, কখন বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নামবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেকের ঘরে এখনও পানি। একরাণে অস্থায়ী একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে পরিবারের লোকজন নিয়ে বসবাস করছেন গত দুই/তিন সপ্তাহ ধরে।

জাহানারার পুরোনো বসতঘরের চিত্র দেখিয়ে দৈনিক জনশ্রুতি প্রতিনিধিকে বলেন, ঘরের ভেতর এখনও পানি। তিন সপ্তাহ আগে বন্যার পানি উঠেছে। কিন্তু এখনও নামেনি। হুট করে বন্যার পানি যখন উঠেছে, তখন সামান্য কিছু মালামাল সরাতে পেরেছি। অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন রোডের ওপর আশ্রয় নিয়েছি।

রোডের পাশে আশ্রয় নেওয়া কুলছুম বেগম বলেন, বন্যার পানি খুব দ্রুত আমাদের ঘরে উঠানে ঢুকে পড়ে। খাটের কাছাকাছি পর্যন্ত পানি উঠে পড়ে। তখন তো আর ঘরে থাকার সুযোগ নেই। তাই গভীর রাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল কাঁথা-বালিশ যা যা কিছু ছিল সব নিয়ে বাড়ির পাশে মেইন রোডে ওপর উঠে আসি। ঘরের কিছু মালামাল টেবিলের ওপর রেখে দিয়েছি। ঘরে এখনও খাট সমান পানি।

রোডের ওপর আশ্রয় নেওয়া রহিমা নামে বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ঘরের মধ্যে পানি। রোডের ওপর ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। এখনও ঘরে হাঁটু পরিমাণ পানি। কবে ঘরে ফিরতে পারবো, সে নিশ্চয়তা নেই। এই রোডে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। হাই স্প্রীডে পরিবহন সহ আরও অনেক গাড়ি চলছে। এই জায়গায় যদি একটু গতি কমিয়ে যাতায়াত করলে শিশুদের জন্য ঝুঁকি কম থাকে। আমাদের মতো অন্তত প্রায় শতাধিক পরিবার এ রোডে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে থাকতেছে। আমরা ঘরবাড়ি রেখে রোডের ওপর উঠলেও আশ্রয় কেন্দ্রে যাইনি। আমাদের অনেকের গরু ছাগল, হাঁস-মুরগি আছে। এগুলো রেখে কোথায় যাব? বাড়িঘরও দেখাশোনা করা লাগে। তাই বাড়ির পাশের রোডই আমাদের আশ্রয়স্থল।

তিনি আরও জানান, প্রায় শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ আশ্রয় নিয়েছে রোডের ওপর। অনেকের গরু আছে কোনো এক উঁচু স্হানে। অনেকের খড়ের গাদা বন্যার পানিতে পচে যাওয়ায় গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছে গৃহস্থরা।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর