দৈনিক জনশ্রুতি ডেস্কঃ সুদূর ডেনমার্ক প্রবাসী আশার বাবা-মাকে খুঁজে পেতে দেশবাসীর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসেলে বসবাসরত প্রবাসী, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবুল হাসনাত মিল্টন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবুল হাসনাত মিল্টন দৈনিক জনশ্রুতিকে জানান, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই আশার ঠাঁই হয়েছিল খুলনার সোনাডাঙ্গার এক অনাথ আশ্রমে। এর কয়েকদিন পরই তার জায়গা হয় ঢাকার আরেক এতিমখানায়। সেখান থেকে ১৯৭৬ সালে তাকে দত্তক নেয় ডেনমার্কের একটি পরিবার।
১৯৭৬ সালের ওই ঘটনার পর থেকে ডেনমার্কেই কাটছে আশার জীবন। মাঝে একবার বাংলাদেশে এসেও স্বজনদের সন্ধান না পেয়ে ফিরে যান। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে এখন তার সংসার। কিন্তু জানেন না নিজের নামটা কে রেখেছিলেন সেকথাও। বছরের পর বছর এই কষ্ট চাপা দিয়ে রাখলেও এখন আর পারছেন না। তাই নিজের পরিবারের সন্ধানে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে আসতে চান আশা।
মেয়েটার জন্ম খুলনায়, সম্ভবত ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স প্রায় ৫০ বছর। কেউ একজন তার নাম রেখেছিলেন আশা। আশা লোকমুখে শুনেছে, ১৯৭৪ বা ৭৫ সালের মে মাসে তাকে সোনাডাঙ্গা মেইন রোডের ‘নির্মল হৃদয় শিশু ভবনে’ রেখে আসা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার ইসলামপুর রোডের আমপট্টি এলাকার এক এতিমখানায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে আশাকে দত্তক নেয় ডেনমার্কের একটি পরিবার। তারপর ১৯৭৬ সালের ১৮ অক্টোবর ওই পরিবারের সঙ্গে ডেনমার্কে চলে যায়। সেই থেকে আশা ওয়েলস নামে ডেনমার্কেই বাস করছেন।
তিনি আরো বলেন, “আমি খুলনার ছেলে জেনে আমার এক সাবেক ছাত্রীর মাধ্যমে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আশার স্বামী মোজেনস ফক আমাকে ইমেইল করেছেন। আশা মার্চ মাসে স্বামী-সন্তানসহ খুলনায় নিজের শেকড়ের সন্ধানে আসতে চান। দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, কেউ কি আশার বাবা-মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়স্বজনের কোনো খোঁজ দিতে পারবেন? যাতে আশার বাবা-মায়ের ঠিকানা খুঁজে পেতে সহজ হয়।”
উল্লেখ্য, ড. আবুল হাসনাত মিল্টন আশার বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়ার জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করে চলেছেন।