বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর প্রেসক্লাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন সদস্য হলেন ৩৭ জন এক হাতেই জীবনজয়ের লড়াই, স্নাতকোত্তর কল্লোলের জীবিকা এখন পথে পথে বেকারির পণ্য বিক্রি খুলনার রূপসায় ফখরুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার শ্রেণিকক্ষের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির পাঠ, চুকনগর কলেজে সমাধানের বৃক্ষ বিতরণ সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে নূরানিয়া মাদরাসায় ‘সমাধান’-এর বৃক্ষ বিতরণ মোংলায় ৭৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সহযোগী রঞ্জন মন্ডল গ্রেফতার ত্রাণ নয়, মর্যাদার সঙ্গে সহায়তা: দৌলতপুরে ভিবিডির ‘১ টাকার বাজার’ কেশবপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাধানের ১৪৫টি গাছের চারা বিতরণ যশোরে MRA চাকরি মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

কেশবপুরে বিএনপি ও যুব দলের নেতাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল

বিল্লাল হোসেন (কেশবপুর) যশোর / ২৮১ বার পঠিত
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

বিল্লাল হোসেন (কেশবপুর) যশোরঃ কেশবপুরে পৌর শহরে গত বৃহস্পতিবার (০৮’ই আগষ্ট) বিএনপি থেকে কাউন্সিলর আফজাল হোসেন বাবু, সোহেল হাসান আইদ ও রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের দু’জন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম মোড়ল ও ওলিয়ার রহমান উজ্জ্বলকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত কারণে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু স্বাক্ষরিত পত্রে বহিষ্কারের সিন্ধান্ত দেওয়া হয়।‌ বহিষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য শতশত নেতা কর্মীরা মিছিল করেন।

এ বিষয়ে কেশবপুরের বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের মধ্যে সোহেল হোসেন আইদ জানান, আমি ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, অনেক বার জেল খেটেছি, মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার ব্যবসা বানিজ্য লুটপাট করেছে। অর্থনৈতিক ভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। গত ১৫ বছরের মধ্যে ১৫/২০ বার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমার বাসা ও দোকানে লুটপাট সহ চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি ও রড দিয়ে ভাংচুর করা হয়।

এদিকে পৌর যুব দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শাহআলম মোড়ল জানান, আমি আমার জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমান এর আদর্শ নিয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে যুব দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। যখন যে সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমার দল রাজনৈতিক ভাবে রাজ পথে মিছিল মিটিং এর সিন্ধান্ত দিয়েছিল। আমি তখন সেগুলো যথাযথ ভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক পালন করেছি।

এ কারণে গত ১৫ বছর ধরে আমি মিথ্যা মামলা ও পুলিশ রিমান্ডের বহুবার শিকার হয়েছি। রিমান্ডে নিয়ে আমার হাতের নখ প্লাস দিয়ে উপড়ে দিয়েছে। হাত-পাঁ বেঁধে আমাকে বেধড়ক ভাবে পিটিয়ে জেল খানাতে প্রেরণ করেছে। আমি জেল খানায় যেয়ে নিজ হাত দিয়ে কিছু দিন ভাত তুলে খেতে পারিনি। পাশে থাকা এক বিএনপির জেল খাটা কর্মী আমাকে খাইয়ে দিত। আমার মেজো ভাই পলাশকেও পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছিল থানাতে। তাকে পুলিশ বেধড়ক ভাবে মারধর করে আর বলে রাজনীতি করবি না বল।

আমার ভাইকে আমার মা থানায় দেখতে গিয়েছিল তখন দায়িত্ব প্রাপ্ত এস আই পিস্তল থেকে গুলি বের করে মার হাতে ধরিয়ে দেয় আর বলে এই গুলি তোর বড় ছেলেকে ক্রস ফায়ারে দেওয়ার জন্য। এই কথা শুনার সাথে সাথে আমার মা ওখানেই মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ায় প্রচুর রক্ত ক্ষরন হয়। এমতাবস্থায় আমার মাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে আমার মা মৃত্যু বরণ করেন।

এদিকে আমার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশ তখন জেল খানাতে আর আমি তখন পলাতক‌ আর আমার মায়ের লাশ বাড়িতে এবং চারপাশে পুলিশ। লুকিয়ে লুকিয়ে আমার মায়ের জানাজা নামাজ আদায় করেছিলাম ও মাটি দিয়েছিলাম। আমার ভাই পলাশ জেল খানায় আমাদের মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল ও ছটপট করছিলো। পুলিশের অমানবিক নির্যাতনে জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশকে এক বছর ক্রেস ভর করে হাঁটতে হয়। আমাদের বসতবাড়িতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা এলোপাতাড়ি ভাবে কয়েক দফা ভাংচুর করা হয়। হসপিটাল মোড়ে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করা হয়।

তাছাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দলীয় সিন্ধান্ত মোতাবেক যখন দায়িত্ব পালন করছিলো ঠিক তখন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশকে চাকু মেরে ড্রেনে মৃত মনে করে ফেলে রেখে যায়। এমতাবস্থায় আমার ভাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনাতে রেফার করে। আমার ভাই এখনও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে শুয়ে-বসে আছে। আমার মাথায় ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি মাথায় বাংলাদেশর পতাকা বেঁধে আন্দোলন করেছি। এমনকি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের আগেও বহুবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছি। এখনও পর্যন্ত পাঁয়ের সমস্যার জন্য খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটতে হয় আমাকে।

গত ০৫’ই আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ০৬’ই আগষ্টে হামলা, লুটপাট, এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আমাদের প্রিয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নেতা-কর্মীদের এক বিশেষ বার্তা দেন। সেই বার্তা মোতাবেক আমরা যথাযথ ভাবে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করি সেটা পালন করার যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য হিন্দুদের বাড়ি ঘর ও মন্দির কর্মীদের নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়েছি। যা জনমনে ভালো প্রভাব ফেলেছে ও সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আমি এ যাবৎ দলের সকল দায়িত্ব শৃঙ্খলার সহিত পালন করেছি।

কিন্তু আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমাদের ভুল ও মিথ্যা তথ্য জেলা বিএনপির কাছে দেওয়ায় আমাদের ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। যারা এই মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো মামলা ও জেল খাটেনি এবং হয়রানির শিকার হয়নি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতা বিএনপির কর্মীর উপর নির্যাতন করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কেশবপুরে এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। আমরা জেলা বিএনপির কাছে অনুরোধ করছি অবিলম্বে আমাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর