যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামে বুধবার (২৬ এপ্রিল) ঘের নিয়ে বিরোধের সুত্র ধরে কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম লিটনকে কুপিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ৬নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রাশেদুল ইসলাম লিটন জনসেবার পাশাপাশি মৎস্য ঘেরের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হবার পর থেকে সাবেক ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আলতাপোল মোড়লপাড়া ঈদগাহের পশ্চিম পাশে ৩০ বিঘা একটি ঘের রয়েছে ইউপি সদস্য লিটনের। ওই ঘেরের প্রায় ৩৫ জন মালিকের মধ্যে সম্প্রতি ৩০ জন জমির মালিক লিটনকে লিখিত চুক্তি করে দিয়েছেন সেই সুবাদে তিনি মৎস্য চাষ শুরু করেছে। ঘের নিয়ে লিটনের বিরোধ রয়েছে যুবদল নেতা মোছাদ্দেক হোসেন বাবুর সাথে। বাবুর পক্ষ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার মৎস্য ঘেরের পাড় বাধা শুরু করার খবর পেয়ে আলতাপোল ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমানের নেতৃত্বে একই এলাকার মোছাদ্দেক হোসেন বাবু, জাকির হোসেন, সবুজ হোসেনসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ঘের দখলে নিতে যায়। দখলে বাধা দিলে দখলকারীরা ঘেরের মোটর ঘরে প্রবেশ করে ইউপি সদস্য লিটনকে বেধড়ক মারপিট করে কুপিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা করে। মোছাদ্দেক হোসেন বাবু হাতুড়ী দিয়ে লিটনের মাথায় আঘাত করলে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। এ সময় হামলাকারীরা আহত লিটনের গলায় থাকা ১৪ আনা ওজনের সোনার চেন ছিনিয়ে নেয় এবং মটর ঘর ভাংচুর করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় লিটনকে উদ্ধার করে এলাকাবাসীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিখন কুমার সরকার বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।