বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুরে দুপুরে সাহসী চুরি-ডাকাতির ঘটনা, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট টেকসই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে কেশবপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত টেকসই পোর্টফোলিওই মাইক্রোফিন্যান্স খাতের প্রকৃত সাফল্য: ড. মেহেদী হাসান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম: কেশবপুরের বাচ্চু রহমানের অনন্য সাফল্য কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি কেশবপুরে যাত্রা শুরু করছে ‘ট্রাস্ট হেলথ সেন্টার’ ডেভলপমেন্ট সেক্টরে কর্মী ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ড. মেহেদী হাসান চারুপীঠ একাডেমি: সংস্কৃতি চর্চার এক উজ্জ্বল ঠিকানা সংস্কৃতি পরিষদের ফলাফলে কেশবপুরে শীর্ষে চারুপীঠ একাডেমি কেশবপুরে এক নারীসহ ১১ আসামি গ্রেফতার

টেকসই পোর্টফোলিওই মাইক্রোফিন্যান্স খাতের প্রকৃত সাফল্য: ড. মেহেদী হাসান

কাওছার হোসেন || দৈনিক জনশ্রুতি / ৫৫ বার পঠিত
প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ

কাওছার হোসেন, দৈনিক জনশ্রুতিঃ বাংলাদেশের মাইক্রোফিন্যান্স খাত গত কয়েক দশকে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতের কার্যক্রম ও সাফল্যের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। শুধু ঋণ বিতরণের পরিমাণ কিংবা নতুন সদস্য বৃদ্ধিই কি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড, নাকি এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক (সার্বিক) সিও ড. মেহেদী হাসান (পিএইচডি-এইচআরএম), যিনি একজন সার্টিফাইড ইন্টারন্যাশনাল এইচআর কনসালটেন্ট এবং মাইক্রোফিন্যান্স প্রাক্টিশনার।

তার মতে, বর্তমান সময়ে অনেক মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানের সাফল্য পরিমাপ করা হচ্ছে কত কোটি টাকা নতুন ঋণ বিতরণ হয়েছে, কতজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে কিংবা মাসিক লক্ষ্যমাত্রা কত শতাংশ অর্জিত হয়েছে—এসব সূচকের মাধ্যমে। কিন্তু এসব সংখ্যার আড়ালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও টেকসই মাইক্রোফিন্যান্স ব্যবস্থার জন্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করা জরুরি—কেন Portfolio at Risk (PAR) বৃদ্ধি পাচ্ছে, কেন Overdue (OD) নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না, কেন একই সদস্য বারবার ঋণ গ্রহণ করছেন, কেন মাঠপর্যায়ে কর্মীদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং কেন একজন সদস্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের চাপে পড়ছেন।

ড. মেহেদী হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সত্যিকার অর্থেই শক্তিশালী হতো, তাহলে সদস্যের সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ, পুনঃতফসিলের সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর্মী পদত্যাগ, লক্ষ্য পূরণের চাপে সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কিংবা সদস্যদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির মতো সমস্যা এতটা প্রকট আকার ধারণ করত না। একইভাবে সদস্য স্থানান্তরের (Migration) উচ্চ হারও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, মাইক্রোফিন্যান্স খাতের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থের ঘাটতি নয়, বরং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেদনে আশাব্যঞ্জক চিত্র ফুটে উঠলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যখন কেবল ঋণ বিতরণকে পুরস্কৃত করা হয়, অথচ পোর্টফোলিওর গুণগত মান, সদস্যের আর্থিক সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তখন ভবিষ্যতের ঝুঁকি ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধি যত দ্রুত হয়, সঠিক তদারকি ও সুশাসনের অভাবে ঝুঁকিও তত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

এ লক্ষ্যে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মতে, ঋণ বিতরণের পরিমাণ নয়, বরং গুণগত পোর্টফোলিওকে প্রতিষ্ঠানের সফলতার প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। মাঠকর্মীদের শুধু টার্গেট অর্জনের কর্মী হিসেবে নয়, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি PAR, OTR, Recovery, সদস্য ধরে রাখার হার এবং দক্ষ কর্মী ধরে রাখার সক্ষমতা—এসব সূচককে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. মেহেদী হাসান আরও বলেন, নেতৃত্বকে কেবল অফিসকেন্দ্রিক না হয়ে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকতে হবে। একই সঙ্গে এমন একটি সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রকৃত সমস্যা তুলে ধরা নিরুৎসাহিত না হয়ে বরং দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করে।

তার ভাষায়, “দুর্বল মাঠকে শক্তিশালী রিপোর্ট দিয়ে বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যায় না।”

তিনি মনে করেন, আগামী দিনের মাইক্রোফিন্যান্স খাতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা হবে কে বেশি ঋণ বিতরণ করল, তা নয়; বরং কে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পোর্টফোলিও, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ধরে রাখতে পারল, সেটিই হবে সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবর্তনের সূচনা হয় বাস্তবতাকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে। তাই এখনই সময় সংখ্যা নির্ভর সাফল্যের বাইরে এসে মানসম্মত সেবা, সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়নের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার। কারণ, শক্তিশালী মাঠই শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করে, আর শক্তিশালী পোর্টফোলিওই একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর