বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর প্রেসক্লাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন সদস্য হলেন ৩৭ জন এক হাতেই জীবনজয়ের লড়াই, স্নাতকোত্তর কল্লোলের জীবিকা এখন পথে পথে বেকারির পণ্য বিক্রি খুলনার রূপসায় ফখরুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার শ্রেণিকক্ষের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির পাঠ, চুকনগর কলেজে সমাধানের বৃক্ষ বিতরণ সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে নূরানিয়া মাদরাসায় ‘সমাধান’-এর বৃক্ষ বিতরণ মোংলায় ৭৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সহযোগী রঞ্জন মন্ডল গ্রেফতার ত্রাণ নয়, মর্যাদার সঙ্গে সহায়তা: দৌলতপুরে ভিবিডির ‘১ টাকার বাজার’ কেশবপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাধানের ১৪৫টি গাছের চারা বিতরণ যশোরে MRA চাকরি মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

কেশবপুরে মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম’কে জীবননাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩১২ বার পঠিত
প্রকাশিত : রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি কেশবপুরে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত এবং জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (০২ ডিসেম্বর) বিকেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের উদ্যোগে শহীদ দৌলত বিশ্বাস চত্বরে (ত্রিমোহিনী মোড়) ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন, কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধোদাদের সন্তানদের পক্ষে বক্তৃতা করেন, আইনজীবী মিলন মিত্র, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত।

সমাবেশ থেকে ৭দিনের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা।

লাঞ্ছিত হওয়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বক্তৃতা কালে বলেন, ‘আর কত মার খাব?- স্বাধীনতাবিরোধীদের দ্বারা মার খেয়েছি। এখন তাঁদের সন্তানেরা আমাদের মারছে। আমরা কোথায় যাব? এর বিচারের ভার কেশবপুরবাসীকে দিতে চাই। আলমগীর সিদ্দিকী (যুবলীগ নেতা) আমাকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। লাঞ্ছিত করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বোন তুলে গালিগালাজ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, কেশবপুরের যত নিয়োগ-বাণিজ্য হয়, তার অর্থ সংগ্রহ করেন ওই আলমগীর সিদ্দিকী। ৪০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি গাড়ি কিনেছেন? এ অর্থ তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন, কেশবপুরবাসী তা জানতে চান। সমাবেশে থেকে ৭দিনের মধ্যে আলমগীর সিদ্দিকীসহ দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় যশোর জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডা. আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পাল্টা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের নামে প্রকাশ্য জনসভায় তাঁর নামে আজেবাজে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি জানতে গিয়েছিলেন। তখন চেয়ারম্যান জুতা খুলে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। তিনিও কথার জবাব দিয়েছেন। আমিও শ্রদ্ধা না রেখেই চড়াও হয়ে অনেক কথা বলেছি সত্য। তখন আমার ধৈর্য ছিল না। নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, এসব বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব।

অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আলমগীর সিদ্দিকী টিটুর আমার প্রতি আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেটা কাউন্সিলের মাধ্যমে এবং সেখানে শুধুমাত্র সাংগঠনিক আলোচনা করা হয়েছে এবং বর্তমান কেশবপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে টিটুর মা জায়ায়েত ইসলামের রোকন ও নাসকতার মামলার আসামি এটা সত্যি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি কাজী র‌ওনকুল শ্রাবণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আর আমার অন্যান্য সকল ছেলেরা জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে আছি। সে ভিন্ন মতাদর্শের সাথে সম্পৃক্ত হ‌ওয়ার কারণে আমি পিতা হিসেবে তাকে ত্যাজ্য পুত্র হিসেবে অনেক আগেই ঘোষণা করেছি এবং আমার সকল সম্পত্তি ও অধিকার থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁর সাথে আমার গোটা পরিবারের অনেকদিন যাবত কোন যোগাযোগ নেই এবং কখনো যোগাযোগ করার ইচ্ছাও নেই। কারণ আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক, আমি মরে যাবো তবুও আমার মাথা নত করবো না। আমার ছেলে হয়েছে তো কি হয়েছে আমি তো তাকে আমার পরিবার থেকে ত্যাজ্য করেছি। তাই এই বিষয়ে নিয়ে আমাকে দুর্বল করতে চাইলে দুর্বল করা যাবে না। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি তখন কেশবপুরের অনেকেরই জন্ম‌ই হয়নি। তাই তারা জানে না এই মহান স্বাধীনতা আনতে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধাদের কত কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু এসব ঐ সন্ত্রাসীদের গড ফাদার টিটু বুঝবে না। তাই ওর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে।

এদিকে নিরাপত্তা জনিত কারনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কিছু জনসাধারণেরা জানিয়েছেন, বর্তমান কেশবপুরের এমপিকে উক্ত আসনে বিজয়ী করতে কেশবপুরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাজী আজহারুল ইসলাম মানিকসহ তাঁর গোটা পরিবার। কিন্তু নির্বাচনের বেশকিছুদিন পর থেকে যখন মরহুম ইসমাত আরা সাদেক এমপি এর আর্শীবাদপুষ্ট একজন বিশেষ সৈনিক ডা. আলমগীর সিদ্দিকী টিটু এর সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমান এমপির সান্নিধ্যে আসা শুরু করেন তখন থেকে ধীরে ধীরে কেশবপুরে লবিং গ্রুপিং এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে শুরু করে। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও এই দলীয় কোন্দলের গতি যেন আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেও এই দলীয় কোন্দলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শুধু তাই নয় নিয়োগ বানিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজীসহ নানাধরনের অপকর্ম এবং অন্যায় অত্যাচারের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কেশবপুরের অভিভাবক বর্তমান এমপির এসকল বিষয় নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। আর আমরা জানিনা আগামীতে কি হবে কেশবপুরের অবস্থা!! তবে আমরা কেশবপুরের মানুষ এসব কাদাছোড়াছুড়ি এবং অশান্তির হাত থেকে মুক্তি চাই ও ভালোভাবে থাকতে চাই। নিজ দলীয় কোন্দলের জেরে কেশবপুর যেন আজ এক নষ্ট কেশবপুরে পরিণত হয়েছে। আমরা এই পরিণতির উন্নতি চাই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুরে কেশবপুর উপজেলা পরিষদের কার্যালয় থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে লাঞ্ছিত করেছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। অভিযোগে যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, জামাল উদ্দীনসহ ১৫-২০ জন যুবক তাঁকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি এবং ঐ সময় যদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন নিচে নেমে না আসতেন তাহলে হয়তো তাকে আরো বেশি লাঞ্চিত হতে হত এমনি গায়ে হাত তোলার মত ঘটনা ঘটাতে দ্বিধাবোধ করতেন না, বর্তমান কেশবপুর (যশোর-৬) আসনের সংসদ সদস্য এর আশীর্বাদ পুষ্ট অঘোষিত বিশেষ ব্যক্তিগত সহকারী ডা. আলমগীর সিদ্দিকী টিটু।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর