বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর প্রেসক্লাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন সদস্য হলেন ৩৭ জন এক হাতেই জীবনজয়ের লড়াই, স্নাতকোত্তর কল্লোলের জীবিকা এখন পথে পথে বেকারির পণ্য বিক্রি খুলনার রূপসায় ফখরুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার শ্রেণিকক্ষের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির পাঠ, চুকনগর কলেজে সমাধানের বৃক্ষ বিতরণ সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে নূরানিয়া মাদরাসায় ‘সমাধান’-এর বৃক্ষ বিতরণ মোংলায় ৭৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সহযোগী রঞ্জন মন্ডল গ্রেফতার ত্রাণ নয়, মর্যাদার সঙ্গে সহায়তা: দৌলতপুরে ভিবিডির ‘১ টাকার বাজার’ কেশবপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাধানের ১৪৫টি গাছের চারা বিতরণ যশোরে MRA চাকরি মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

মুর্শিদা খাতুন সুমি, নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৬৬ বার পঠিত
প্রকাশিত : শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। নিম্ন মানের কাজ এবং কার্যাদেশ না মেনে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদাররা। ঠিকাদাররা তাদের খেয়াল খুশিমতো কাজ করলেও নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। কাজের মান নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে অদৃশ্য কারণে। শুধু কাজের ক্ষেত্রেই নয়, ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন নানা অনিয়মের চিত্র।

জানা গেছে, এলজিইডির আওতায় ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার রামদিয়া বাজার হতে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ শেষ হতে না হতেই ভেঙে গেছে। ২.৭ কিলোমিটার সড়কটির ৪০ স্থানেই ভেঙে গেছে। ঘৃতকান্দি এলাকায় তিনটি স্থানে সড়ক ধসে খালে মধ্যে চলে গেছে। ধসে যাওয়া অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে রেখেছেন। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে জান্নাত কনষ্ট্রাকশন লিমিটেড নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক অনেক প্রভাবশালী বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, যথাযথভাবে পাইলিং না করা ও রাস্তা ঘেঁষে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে রাস্তায় দেয়ায় সড়কটি ধসে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোঃ রহমত আলীর সাথে কথা যোগাযোগ করলে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘দ্রুত আমরা ধসে যাওয়া সড়ক মেরামত করে দেব।’

এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাথানডাঙ্গা-সাতাশিয়া ভায়া মাহমুদপুর সড়কে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে পিচ ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। যা সকালেই সাধারণ মানুষের জুতার ঘষায় উঠে যায়। কার্যাদেশ না মেনে ও অতি সামান্য বিটুমিন দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় এমনটা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয়দের বাঁধা উপেক্ষা করে রাতের আধাঁরে রাস্তায় নিম্নমানের পিচের কার্পেটিয়ের কাজ করেছে। যা হাত দিয়ে টান দিলে বা পা দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে গেছে। ২৫ মিমি কার্পেটিং করার কথা থাকলেও কিছু কিছু স্থানে ৫ থেকে ৭ মি.মি. কার্পেটিং করা হয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

আরো জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩ টাকা ব্যয়ে উপজেলার বাথানডাঙ্গা, সাতাশিয়া, ভায়া মাহমুদপুরে ১১০০ মিটার সড়ক প্রশস্তের কাজ হাতে নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেকেই-বিএসিকে (জেভি)। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে কাজটি নেয় স্থানীয় ঠিকাদার এ্যাডভোকেট রাজিব।

এ বিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মোরশেদুল হাসান রাতে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাজ চলমান আছে। কোথাও কোন সমস্যা হলে ঠিক করে দেয়া হবে।’ কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হলেও; সড়কটি আজও সংস্কার বা মেরামত করে দেওয়া হয়নি। অথচ কাজের বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার।

অপরদিকে, ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাশিয়ানী উপজেলার দেবাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোপালগঞ্জ সদরের নিজড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার পিচের কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল এ্যান্ড ব্রাদার্স। এ কাজ নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশ ঘেঁষে মাটি তুলে রাস্তায় দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে রাস্তা ধসে খালের মধ্যে চলে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী ঠিকাদারের লোকজনকে রাস্তার ঘেঁষে খাল থেকে মাটি তুলতে নিষেধ করলেও তা শুনছেন না তারা। এছাড়া কাজে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয় উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ মোরশেদুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাজের অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাথানডাঙ্গা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক মেরামত করে দেওয়ার কথা ছিল। ঘৃতকান্দি ভেঙে যাওয়া সড়ক মেরামত করে দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত কাজের মেয়াদ রয়েছে।’


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর