নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে আবাদি জমি থেকে উত্তোলন করা রসুনের ঝাঁজালো ঘ্রাণে পথিক ও স্থানীয় লোকজন মাতোয়ারা। সেই সাথে ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
জানা গেছে, মাত্র ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গোয়ালন্দ উপজেলা। কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর ১৪৫০ হেক্টর জমিতে রসূনের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান এ বছর বিঘা প্রতি ৪০-৪৫ মন রসুন উৎপাদন হচ্ছে। তবে বেড়ীবাঁধ বেষ্টিত এলাকার চেয়ে পদ্মা পাড়ের চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে রসূনের আবাদ বেশী হয়েছে। গোয়ালন্দে সাধারণত স্থানীয় জাতের রসুন আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে মাঠ ভরা রসুন আর রসুন। প্রায় জমিতেই প্লাস্টিকের নেট বস্তায় সাদা রঙের রসুন ভরা সারি সারি বস্তা দাঁড় করানো। নারী পুরুষ বা কিষান কিষাণী এমকি তাদের শিশুরাও রসুন সংগ্রহের কাজ করে থাকে। রসুন তোলার পর ক্ষেতে বসে কাঁচি, বটি, দা, ছুরি দিয়ে রসুনের গাছ শিকর কেটে পরিস্কার করে বস্তায় ভরে বাজারজাত করা হয়।
এ বিষয়ে কৃষক মো: আলমগীর মোল্লা জানান, এবার তারা ভাল ফলন পেয়ে বেজায় খুশি। দামও ভালো পাচ্ছেন। প্রতি মন রসুন ৫ থেকে সারে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছে বলে তারা জানান।
তবে কোন কোন কৃষক আক্ষেপের সুরে বলেন টেলিভিশন ও খবর পত্রে আমরা যে হারে রসুনের চরা দর দেখি আমরা সে হারে দাম পাইনা। আমাদের কাছ থেকে যে কোনো ফসল ব্যাবসায়ীদের কাছে গেলেই তার দাম বেড়ে যায়। আমাদের কাছ থেকে কমদামে কিনে বাজারে নিয়ে কারসাজি করে তারা চরাদামে বিক্রি করে। আমরা ন্যায্য দাম পাইনা। এটাতো আপনারা দ্যাখেন না।
দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা, উত্তর চর পাচুরিয়া, কাওলজানি, মুন্সি পাড়া, অন্তার মোড়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কুশাহাটা, বেতকা, রাখালগাছি, বাহেরচর, বেপারিপাড়া, মজলিসপুর, খালেক মৃধার পাড়া,পরশ উল্লার পাড়া, সিরাজ খাঁর পাড়া, তমিজদ্দি মৃধা পাড়া, উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দন মন্ডের পাড়া, জাম তলা, দরাপের ডাঙ্গা, দুদুখান পাড়া, ছোট ভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাধ্যমে রসুন আবাদ ও বাজারজাত করনের বিষয়ে নানা তথ্য পাওয়া যায়।
তাঁরা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ এ বছর রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। অন্য বছেরর তুলনায় এবার দামও ভালো পেয়েছি। তবে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে আমাদের খোঁজ খবর নিলে জমির উর্বরতা অনুযায়ী আমরা আরো ভালো ফসল ফলাতে পারবো।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খোকন উজ্জামান জানান, গোয়ালন্দের কৃষকরা এখন আগের চেয়ে অনেকটা সচেতন। প্রত্যেক মাঠে এবার ভালো রসুনের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা দামও ভাল পেয়ে খুশি। প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আরো সচেতন ও অভিজ্ঞ করে নতুন প্রযুক্তির চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃষি বিষয়ক স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ করে চলেছি।