নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই গরমে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির নাম— হিট স্ট্রোক। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী। এমনকি মৃত্যুর খবরও আসছে বিভিন্ন স্থান থেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সচেতন না হলে যেকোনো বয়সের মানুষ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
*** হিট স্ট্রোক কী?
হিট স্ট্রোক হলো এমন এক অবস্থা, যখন শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায় (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি) এবং শরীর তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এটি একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, কিডনি ও পেশিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
*** হিট স্ট্রোকের উপসর্গ
✓ অতিরিক্ত শরীর গরম হওয়া, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া।
✓ মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব।
✓ দ্রুত হার্টবিট ও শ্বাসপ্রশ্বাস।
✓ বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
✓ ত্বক লালচে ও শুকনো হয়ে যাওয়া।
এই উপসর্গ দেখা দিলেই রোগীকে দ্রুত ছায়াযুক্ত ঠাণ্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
*** হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী, নিচের সতর্কতাগুলো মানলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়:
∆ দিনে ৮–১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত তরল পান করুন।
∆ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদে বের না হওয়াই উত্তম।
∆ বাইরে গেলে ছাতা, টুপি বা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
∆ হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন।
∆ সহজপাচ্য ও বাড়িতে প্রস্তুত খাবার গ্রহণ করুন।
∆ সম্ভব হলে দিনে একাধিকবার গোসল করুন বা শরীরে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে দিন।
∆ শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখুন।
*** কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন—
√ শিশুরা ও বয়স্ক নাগরিক।
√ নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও কৃষকেরা।
√ যাদের ওজন বেশি।
√ যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ রয়েছে।
*** জরুরি করণীয়
কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত যা করতে হবে:
১. তাকে ঠাণ্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যান।
২. অতিরিক্ত পোশাক খুলে দিন।
৩. বরফ বা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শরীর ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করুন।
৪. দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা বলছেন, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য হলেও একবার আক্রান্ত হলে তা জীবনহানিকর হতে পারে। তাই সময় থাকতে সতর্ক থাকা জরুরি।