শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় ‘Good Governance in NGOs’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কেশবপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ট্রাস্ট হেলথ সেন্টারের যাত্রা শুরু কেশবপুরে দুপুরে সাহসী চুরি-ডাকাতির ঘটনা, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট টেকসই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে কেশবপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত টেকসই পোর্টফোলিওই মাইক্রোফিন্যান্স খাতের প্রকৃত সাফল্য: ড. মেহেদী হাসান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম: কেশবপুরের বাচ্চু রহমানের অনন্য সাফল্য কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি কেশবপুরে যাত্রা শুরু করছে ‘ট্রাস্ট হেলথ সেন্টার’ ডেভলপমেন্ট সেক্টরে কর্মী ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ড. মেহেদী হাসান চারুপীঠ একাডেমি: সংস্কৃতি চর্চার এক উজ্জ্বল ঠিকানা

রয়েল এনফিল্ডের ইতিহাস এবং ১২০ বছরের পুরনো কিছু গল্প

দৈনিক জনশ্রুতি ডেস্ক : / ১৯৭৩ বার পঠিত
প্রকাশিত : বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪, ১:০৪ অপরাহ্ণ

দৈনিক জনশ্রুতি ডেস্কঃ রয়েল এনফিল্ড মানেই অধিকাংশ বাইকারদের কাছে ভালো লাগার অপর এক নাম, কিন্তু আমরা অনেকেই জনপ্রিয় এই ব্রান্ড নিয়ে অনেক তথ্য জানি না। আমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় রয়েল এনফিল্ড কোন দেশের ব্রান্ড? আমরাও হয়তো উত্তর দিবো ইন্ডিয়ান ব্রান্ড, কিন্তু আসলেই কি তাই? জেনে নিন রয়েল এনফিল্ডের ইতিহাস এবং ১২০ বছরের পুরনো কিছু গল্প।

রয়েল এনফিল্ডের মূল শিকড় হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। জনপ্রিয় এই মোটরসাইকেল ব্রান্ডের বয়স ১২০ বছরেরও বেশি। ১৮৯৬ সালে এডি মিডলসেক্সের এনফিল্ড শহরে রয়েল স্মল আর্মস ফ্যাক্টরির জন্য যন্ত্রপাতি তৈরির কন্ট্রাক্ট পায় এবং এখান থেকেই রয়েল এনফিল্ড নামের জন্ম। ঐ বছরই তারা নিউ এনফিল্ড সাইকেল কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয় এবং এখান থেকে ১৮৯৭ সালে সাইকেলের সব ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করে।

এনফিল্ড ১৯০১ সালে তাদের প্রথম ২৩৯ সিসি মোটরবাইক বাজারে আনে। কোন কাজ শুরু করেই প্রথমে সফলতা পাওয়া যায় না, এনফিল্ড ১৯০৯ সালে তৈরি তাদের ভি টুইন ২৯৭ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল দিয়ে সফলতা অর্জন করে। ১৯০২ সালে তারা একটি মোটরগাড়ি বানায় এবং ১৯০৬ সালে অটোকার কোম্পানি স্থাপন করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল চার চাকার যানবাহনের মার্কেট দখল করা। তবে মাত্র ১৯ মাস পরেই লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় তাদের মোটরগাড়ি তৈরির কারখানা।

রয়েল এনফিল্ডের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল সেই সময়ের ব্রিটেনের বাইক লাইসেন্স আইন। এই আইন অনুযায়ী ১৬ বছর বা তার উর্ধ্বের যে কেউ ২৫০ সিসি বা তার নিচের বাইক চালাতে পারত শুধুমাত্র একটা লার্নার লাইসেন্স করে। এর জন্য কোনো পরীক্ষাও দেওয়া লাগত না। রয়্যাল এনফিল্ড এই কারণে কয়েকটি মডেলের ২৫০ সিসি বাইক তৈরি করে। এই বাইকগুলো ছিল ছোট এবং দামেও খুব বেশি না। কমবয়সী ব্রিটিশরা এসব বাইক কিনতে শুরু করে। সেই থেকে শুরু হয় ‘ক্যাফে রেসার’ যুগের।

এবার আসা যাক কিভাবে রয়েল এনফিল্ড ভারতে আগমন করে? আসুন জেনে নেই, বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬-৫৪ সালে রয়েল এনফিল্ড তাদের নতুন নতুন বাইকের ডিজাইন বাজারে আনতে শুরু করে। এই সময় তারা বিখ্যাত মডেল ‘বুলেট’ বাজারে আনে। বুলেট ৩৫০ সিসি এবং বুলেট ৫০০ সিসি খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। এরপর আসে রয়েল এনফিল্ড সুপার মিটিয়র এবং সুপার মিটিয়র কন্সটেলেশন, বাইকগুলো ছিল ৭০০ সিসির বাইক।

১৯৪৯ সালে ৩৫০ সিসির বুলেট প্রথম ভারতের বাজারে আসে। সেই সময়টাতে ভারতের সরকার এমন এক মোটরসাইকেলের সন্ধানে ছিল, যেটি সীমান্তে টহল দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে পারে। রয়েল এনফিল্ডের বুলেট ৩৫০ বাইকটি সরকারের চিন্তার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এটি ৮০০ ইউনিটের অর্ডার দেয়। ১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ কোম্পানি রয়েল এনফিল্ড মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চেন্নাইতে একটি সংযোজন কারখানা করে। প্রথম দিকে শুধু মোটরবাইক অ্যাসেম্বলিং করা হতো ভারতে। তবে ১৯৬২ সালের পর থেকে ভারতেই তৈরি হয় রয়েল এনফিল্ড। আর এভাবেই বিকাশ লাভ করে রয়েল এনফিল্ড।

রয়েল এনফিল্ড বাইকের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত। ২০১৫ সালে তারা গ্লোবাল সেলে হার্লে ডেভিডসনকে হারিয়ে শীর্ষে ওঠে। হার্লে ডেভিডসন সারা বিশ্বে যত বাইক বিক্রি করেছে তার থেকে বেশি বাইক শুধু ভারতেই বিক্রি করেছে রয়েল এনফিল্ড। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে ৫০টির বেশি দেশে বাইক বিক্রি করছে এনফিল্ড।

শুধু তাই বিশ্বযুদ্ধেরো সাক্ষী এই রয়েল এনফিল্ড আপনারা জানেন কি? তাহলে চলুন জেনে নেই, এনফিল্ড যখন তাদের ২ স্ট্রোক মোটরসাইকেলের উৎপাদনও শুরু করলো, ঠিক তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো। এই সময়টাতে বাজারে বেশ বড় ধরনের মোটরসাইকেলের চাহিদা তৈরী হয় , আর এনফিল্ড বেশ বড় আকারের মোটরসাইকেল বাজারে আনে। যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যসহ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে মোটরসাইকেল সরবরাহ করে রয়েল এনফিল্ড। বাইকগুলো অনেক মজবুত হওয়ার জন্য বাইকগুলো সেনাবাহিনীর কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে চুক্তি করে। এই সময় কোম্পানি মিলিটারি গ্রেড মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে। এ সময় তারা ২৫০ সিসি, ৩৫০ সিসি এবং ৫৭০ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল তৈরি করে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল রয়েল এনফিল্ড ডব্লিউডি/আরই। এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল প্লেন থেকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নিচে ফেলার জন্য। যুদ্ধের সময় বোমারু বিমানের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওয়েস্টউডে একটি ভূগর্ভস্থ কারখানা নির্মাণ করা হয়েছিল।

সূত্রঃ আল্টিমেট পজিটিভ মাইন্ড ফেসবুক পেইজ।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর