কাওছার হোসেন: যশোরের কেশবপুরে বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালানোর অভিযোগের ঘটনায় পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গাড়ি থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, কেশবপুর হাসপাতাল রোড এলাকায় সোমবার (২৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি প্রাইভেটকার অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এ সময় গাড়িটির চালক পথচারী, অন্যান্য যানবাহন চালক ও আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা গাড়িটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহাপাড়া এলাকার একটি খ্রিস্টান চার্চ সংলগ্ন রাস্তার কাছাকাছি বিলের মধ্যে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৩-৭৪৮৭।
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির মালিক নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তিনি নিজে গাড়ি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সময় তার আচরণ অসংলগ্ন মনে হওয়ায় এবং মাদকাসক্তির সন্দেহে পুলিশ গাড়িটি তল্লাশি করতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। গাড়ির ভেতরে মদের বোতল দৃশ্যমান থাকলেও চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সমঝোতার প্রস্তাব এলেও উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন নেতা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
পরে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১০ গ্রাম গাঁজা এবং একাধিক বোতলে আনুমানিক ৭৫০ মিলিলিটার মদ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে গাড়িটি জব্দ করে কেশবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা যায়, গাড়ির মালিক নাঈম ও তার স্ত্রী খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তারা কেশবপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তারা ওই এলাকায় এসেছেন এবং তাদের আচরণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।