মুর্শিদা, যুগ্ম-সম্পাদকঃ মাতৃত্বের সংজ্ঞায় আসছে নতুন মোড়। আধুনিক বিজ্ঞান এবার জীবনের জন্মপ্রক্রিয়াকে মানবদেহের সীমানা ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জাপানের Juntendo University-এর গবেষকরা সফলভাবে উদ্ভাবন করেছেন একটি কৃত্রিম গর্ভ (Artificial Womb), যা মানুষের শরীরের বাইরে এক বিশেষ জৈব ক্যাপসুলে (bio-pod) সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম।
এই বায়ো-ক্যাপসুলটি স্বাভাবিক গর্ভের মতোই অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের কার্যক্রম সম্পাদন করে। গবেষণাটি ইতোমধ্যে ছাগলের ভ্রূণ (goat embryo) ব্যবহার করে সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে, যেখানে ভ্রূণটি নিরাপদে বেড়ে উঠেছে মায়ের শরীর ছাড়াই।
এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিপ্লবী সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে— প্রাকপ্রসূ (extremely premature) শিশুদের জীবন রক্ষা, জটিল মাতৃত্বজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা, কিংবা বন্ধ্যত্বে ভোগা দম্পতির জন্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবেও এটি কাজ করতে পারে।
তবে এই অগ্রগতি যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি এটি ঘিরে রয়েছে নানান নৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন- গর্ভধারণে নারীর সম্মতির প্রয়োজনীয়তা, গর্ভপাতের অধিকার ও সীমা এবং মা ও সন্তানের মধ্যকার প্রাকৃতিক সংযোগ—সবই এক নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
যদিও এখনো এটি পশু পর্যায়ে সীমিত, গবেষকরা আশাবাদী, আগামী দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে মানব শিশুদের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি নিরাপদ ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে—শুধু প্রয়োজন যথাযথ আইনগত কাঠামো ও নৈতিক অনুমোদন।
এটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, বরং এক নতুন প্রশ্নও বটে—ভবিষ্যতের মাতৃত্ব কি প্রযুক্তির হাতে গড়া হবে? জবাব সময়ই দেবে, তবে সম্ভাবনার দুয়ার ইতিমধ্যে খুলে গেছে।
তথ্য সূত্রঃ Michele Gargiulo