রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম: কেশবপুরের বাচ্চু রহমানের অনন্য সাফল্য কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি কেশবপুরে যাত্রা শুরু করছে ‘ট্রাস্ট হেলথ সেন্টার’ ডেভলপমেন্ট সেক্টরে কর্মী ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ড. মেহেদী হাসান চারুপীঠ একাডেমি: সংস্কৃতি চর্চার এক উজ্জ্বল ঠিকানা সংস্কৃতি পরিষদের ফলাফলে কেশবপুরে শীর্ষে চারুপীঠ একাডেমি কেশবপুরে এক নারীসহ ১১ আসামি গ্রেফতার কলারোয়ায় পূবালী ব্যাংকের তিনদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস কলারোয়া’ ক্যাম্পেইন শুরু মোটরসাইকেলের অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে যশোরে মানববন্ধন মানবিক সহায়তায় স্বনির্ভরতার লক্ষ্য: রাজধানীতে ‘NGO-MFI রিসোর্সড পুলড ফান্ড’-এর যাত্রা শুরু

ডেভলপমেন্ট সেক্টরে কর্মী ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ড. মেহেদী হাসান

কাওছার হোসেন || দৈনিক জনশ্রুতি / ৭৩ বার পঠিত
প্রকাশিত : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

কাওছার হোসেন, দৈনিক জনশ্রুতি: এনজিও, নন-প্রফিট, সিএসও, এমএফআই ও ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী ধরে রাখা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মীরা সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণমূলক কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত থাকলেও বিভিন্ন কারণে তারা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এমন বাস্তবতায় কর্মী ধরে রাখার কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক এইচআর কনসালটেন্ট ড. মেহেদী হাসান।

সম্প্রতি এক মতামতে তিনি বলেন, কর্মীরা কেবল প্রতিষ্ঠানের মিশন বা সামাজিক প্রভাব দেখে দীর্ঘদিন কাজ করেন না; তারা নিজেদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, স্বীকৃতি, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও বিবেচনা করেন। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দিলে কর্মী ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কর্মী চলে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্যারিয়ার গ্রোথের সুস্পষ্ট পথের অভাব। অনেক কর্মী তাদের ভবিষ্যৎ পদোন্নতি, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, ট্যালেন্ট পুল এবং সাকসেশন প্ল্যানিং কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

ড. মেহেদী হাসান আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপকের কারণে চাকরি ছাড়েন। নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব, মতামত প্রকাশের সুযোগ না থাকা এবং কার্যকর ফিডব্যাক সংস্কৃতির অভাব কর্মীদের হতাশ করে। তাই নিয়মিত ওয়ান-টু-ওয়ান মিটিং এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, অতিরিক্ত কাজের চাপ, মাঠ পর্যায়ের টার্গেট, ডোনার কমপ্লায়েন্স, রিপোর্টিং এবং প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা কর্মীদের মধ্যে বার্নআউট সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা, কাজের চাপ মূল্যায়ন এবং মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বেতন নয়, কর্মীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতির অভাব কর্মীদের অনুপ্রেরণা কমিয়ে দেয়। এজন্য বিভিন্ন ধরনের রিকগনিশন প্রোগ্রাম ও প্রশংসার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত মূল্যবোধ ও বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য, প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতার অভাব এবং কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করাও কর্মী চলে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ।

ড. মেহেদী হাসান বলেন, “কর্মীরা শুধু চাকরি ছাড়ে না; তারা এমন কর্মপরিবেশ ছাড়ে যেখানে তারা মূল্যায়িত, সম্মানিত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী বোধ করে না।”

তিনি আরও বলেন, ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে টেকসই সাফল্য ও ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করতে হলে শুধু উপকারভোগীদের নয়, কর্মীদের সন্তুষ্টি ও ধরে রাখার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দক্ষ, অনুপ্রাণিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মীরাই একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মপরিবেশে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে মানবিক নেতৃত্ব, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং অংশগ্রহণমূলক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর